মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন
["অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন"।--- সূরা আত তাওবা আয়াত ২]
কুরআনের প্রতিটা আয়াতের জাহের/প্রকাশ্য এবং বাতেন/গুপ্ত /অন্ত নিহিত সারমর্ম রয়েছে।
উক্ত আয়াতের বাতেনি ব্যাখ্যা হলো, তোমারা পরিভ্রমণ কর এ দেশে। এখানে এ দেশ বলতে মহান আল্লাহ নিজ দেহভান্ডকে বুঝিয়েছেন। আমাদের দেহের মাঝে আগুন পানি বাতাস মাটি নুর। আসমান জমিন চন্দ্র সূর্য সবই রয়েছে যা সৃষ্টির মাঝে রয়েছে। এই দেহের সপ্তম তালা উর্ধে পৌঁছাতে পারলেই আল্লাহর রাসুলের দিদার মিলে।
মহান আল্লাহ শয়ং এই দেহে তথা নিজ দেশে পরিভ্রমণ করতে বলেছেন। ইহাই সুফি ভাবাদর্শের মতে ধ্যান সাধনা। এই সাধনায় মগ্ন হলে দুনিয়ার জিন্দেগী হতে মুক্ত হতে হয়। তথা একান্তই আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকা।
মহান আল্লাহর পবিত্র কুরআনে চার মাসকাল পরিভ্রমণ করতে বলেছেন। একসাথে চারমাস পরিভ্রমণ অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ইহা ৩ খন্ডে বিভক্ত করে ৪০+৪০+৪০ তথা ৪০ দিনের চিল্লাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধ্যান সাধনা নবী পাক মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়ং নিজে করেছেন। পবিত্র হেরা গুহায় ১৫ বছর ৩ মাস ১৯ দিন। সাধারণ মানুষের জন্য ইহা কষ্টের বলে মহান আল্লাহ ইহা ১২০ দিন তথা ৪ মাস মেয়াদি আদেশ করেছেন।
এই ধ্যান সাধনা যুগে যুগে আউলিয়াগনও করেছেন।
দুঃখের বিষয়, অনেকে মনে করেছে। নিজ দেশ বলতে মহান আল্লাহ। নিজেদের দেশ তথা যেই দেশে মানুষ বসবাস করে। তাই গাট্টি পুটলি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে গ্রামে মহল্লায় ধর্ম প্রচারে।
চিল্লার মূল হকিকত হলো #নিজেকে_চেনা। আত্মশুদ্ধি অর্জন করে মহান আল্লাহর রহমতের নুর মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিদার লাভ করা।
অথচ অধিকাংশ উহার মর্ম না বুঝে। ইহা নিরব নির্জনে করতে হয় এবং একাকী করতে হয়।
0 মন্তব্যসমূহ