রবিউল আউয়াল হচ্ছে ১৪ মাসুমীন (আঃ)এর জন্য বিশেষ একটি দিন
এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্যবাহী ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে আজকের দিনটি আমাদের যুগের ইমাম,
হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) যিনি হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ১২তম উত্তরসূরি ও স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি এবং ১১তম ইমাম হযরত হাসান আসকারী (আঃ) এর একমাত্র পুত্র সন্তান এর ইমামত এর প্রথম দিন ও এই দিনেই উনি জনসাধারণ এর সমুক্ষে এসেছিলেন এবং সমস্ত জনগণ ইমাম (আঃ) কে দেখতে পেরেছিলেন ।
জনসাধারণ এর সামনে আসার কারন ছিল উনার পিতা হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) জানাজার নামায পড়ানোকারন একজন মাসুমীন (আঃ) এর জানাজার নামায অন্য মাসুমীন পড়াতে পারবে না, শুধুমাত্র একজন মাসুমীন (আঃ) ই মাসুমীন (আঃ) এর জানাজার নামাজ পড়াতে পারবে , ৮ রবিউল আওয়াল রাতে ইমাম হাসান আসকারী(আঃ) কে বিষ দ্বারা শহিদ করা হয় অতঃপর প্রভাতে নামাযের পর ইমামের জানাযার সময় হয়ে গেল।
তাই ইমাম (আঃ)কে জনসাধারণ এর সমুক্ষে আসতে হয়েছিল, জনগণ এর মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরাই মনে করত ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) এর কোনো সন্তান নেই, তাই তারা ইমাম (আঃ) এর ভাই জাফর কে বলেছিল জানাজার নামায যেন উনি পড়ান, তাই ইমাম (আঃ) এর ভাই জাফর যখনি নামাজ আরম্ভ করবেন ঠিক তখনি পেছন থেকে ,
“ চাচা জাফর, থেমে যান ! ”
এই বাক্যটি উচ্চারিত হলো,
জাফর ও জনগণ সবাই পেছনে তাকালে দেখতে পায় যে, একজন সুদর্শন ও সুদৃষ্ট বালক মাথায় সবুজ আমামা (পাগড়ী) ও গায়ে আলে রাসুল (সাঃ) এর সবুজ আ'বা পরিধেয় অবস্থায় আগে বাড়ছেন ও দূর থেকেই তার শরীর হতে বের হওয়া সুঘ্রাণ সবাই অনুভব করতে পারছে, তার দেহ কাঠামো ও মুখমণ্ডল দেখে সবাই বুঝতে পারলো সে ইমাম (আঃ) এর কোনো আপনজন কারন এমন মুখমণ্ডল ও দেহ কাঠামো শুধুমাত্র হযরত ফাতিমা (আঃ) ও হযরত আলী (আঃ) এর সন্তান ইমাম হাসান (আঃ) ও ইমাম হুসেইন (আঃ) এর সন্তানদেরই হতে পারে ।
ইমাম (আঃ) জাফরের কাছে আসলেন এবং বললেন,
“ দয়া করে আপনি সরে যান, কারন জানাজার নামায আমি ছাড়া আমার পিতাকে কেউ পড়াতে পারবে না, কারন আমি ই হচ্ছি উনার স্থলাভিষিক্ত ও উত্তরসূরি । ”
এরপর ইমাম (আঃ) নিজের পিতা ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) এর জানাজার নামায পড়ালেন ।
নামায শেষে ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) এর কিছু সাহাবী এসে ইমাম মাহদী (আঃ) কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করলেন যার উত্তর মাসুমীন (আঃ) ব্যতীত কারোর নিকট থেকে আশা করা যায় না, সেগুলো প্রশ্নের উত্তর গুলো ইমাম (আঃ) তাদেরকে দিয়ে দিলেন এবং যখন সব ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করার সবাই একমত হলেন যে তিনি ই হচ্ছেন ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) এর উত্তরসূরি ও স্থলাভিষিক্ত ১২তম ইমাম মাহদী (আঃ) তখন সবাই ইমাম (আঃ) কে আনুগত্যের শপথ ও আহলেবাইত (আঃ) এর সমস্ত ইমাম, হুজ্জাত ও উলিল আমর হিসেবে স্বীকার করে নিলো, ধীরে ধীরে সকল আহলেবাইত (আঃ) এর ইমাম কে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) দেয়া শুরু করলো ।
এইভাবে ই শুরু হয়েছিল তার সুদীর্ঘ ইমামত এর প্রথম দিন এবং সেইদিন থেকে যা আজও অব্যাহত রয়েছে, ইমাম (আঃ) ও আল্লাহর হুজ্জাত হয়ে ১১০০ বছর ধরে আমাদের হেদায়াত ও হেফাজত করে যাচ্ছেন উনি এবং আল্লাহর হুকুমে শেষ যুগে তিনি জনসম্মুখে প্রকাশিত হবেন ও সমগ্র পৃথিবী তে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন ।
ইমাম মাহদী (আঃ) হলেন আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কর্তৃক নির্বাচিত দ্বীন-এ-ইসলামের ১২ জন ইমামগণ (আঃ) এর মধ্যে সর্বশেষ ১২তম ইমাম ।
উনি হচ্ছেন ৩য় ইমাম হুসেইন ইবনে আলী (আঃ) এর বংশগত ৯ম উত্তরসূরি সন্তান ।
উনার সর্বশেষ প্রপিতামহ হচ্ছেন ১ম ইমাম আমীরুল মোমিনীন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) ও উনার প্রমাতামহ হচ্ছেন আল্লাহর প্রিয় রাসুল (সাঃ) এর একমাত্র কন্যাসন্তান জগৎসমূহের নারীদের সম্রাজ্ঞী হযরত বিবি ফাতিমা যাহরা (আঃ) ।
ইমাম মাহদী (আঃ) সয়ং আল্লাহর কৃতক প্রেরিত হুজ্জাত ও ইমাম যিনি হযরত ফাতিমা যাহরা (আঃ) এর সর্বশেষ সন্তান, উনার মাধ্যমেই পৃথিবী তে শান্তি, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা হবে এবং তার সেই মহান বিপ্লব এর শুরু হবে ইমাম হুসেইন (আঃ) হত্যাকারী ও হত্যার জন্য দায়ী সকল পাপিষ্ঠ উম্মত দের বিরুদ্ধে আন্দোলন এর মাধ্যমে, যারা সেই যুগে দাজ্জাল ও তার সাহায্যকারী হিসেবে পরিচিত থাকবে ।
এই মহান ইমাম যিনি বিবি ফাতিমা যাহরা (আঃ) এর সর্বশেষ সন্তান ও আল্লাহর হুজ্জাত তিনি কারবালার প্রকৃত অধিকার দুনিয়ার সামনে প্রকাশ করবেন এবং সকলকে দেখাবেন বিবি ফাতিমা যাহরা (আঃ) এর সন্তানদের উপর কেমন অত্যাচার করা হয়েছে এবং তিনি তাদের অধিকার কে সমগ্র দুনিয়া তে প্রতিষ্ঠিত করবেন,
আজকের দিনেই সেই মহান ইমাম (আঃ) সুদীর্ঘ ইমামতকাল সুত্রপাত হয়েছিল বলেই এই দিন কে ঈদ-এ-যাহরা (আঃ) বলা হয়,
এই মহান ইমাম (আঃ) এর ইমামত আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর প্রিয়সন্তান ও আল আমিনের নারীদের সম্রাজ্ঞী ফাতিমা যাহরা (আঃ) এর জন্য পরম সুখ ও শান্তির ছায়া হিসেবে বিবেচিত হবে ।

0 মন্তব্যসমূহ