" মারেফত কেন? এবং কি জন্য? "



মারেফাত শব্দ আসছে "আরাফা"থেকে যার অর্থ আল্লাহকে চেনা। আর আল্লাহকে চেনা ফরয। আত্নশুদ্ধি লাভ করা যেহেতু ফরয, সেহেতু ইলমে তাসাউফ বা মারেফাত শিক্ষ করা ও ফরয। আর কিতাবি জ্ঞান দ্বারা কখনোই আল্লাহকে পাওয়া যায় না । আপনাদের দুইটা ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা
বলি যাতে আপনারা বুঝবেন পীর কেন এবং
কি জন্য এতো দরকার ।

১ম ঘটনাঃ

মাওলানা রুমী (রহঃ) আগে শরিয়তের মহা
আলেম, পণ্ডিত,মুফাছচ্ছের, মুহাদ্দিস ছিলেন যার খেদমতে ছিল ওই জামানার বিজ্ঞ ২০০ মুফতি মাওলানা। একদিন ওনার কাছে দয়াল হযরত সামস এ তাবরীজ (রঃ) একদিন আসলেন আর দেখেন যে রুমী জোহরের নামাজ শেষ করে কোরআনের তাফসির পড়তেছে তখন পাগল সামস এ তাবরীজ (রঃ) বলল, কি পড় ?
এইসব উত্তরে রুমী বললেন, ওহে পাগল! এইগুলা হল আমার জীবনের সঞ্চয় মহা মূল্যবান হাদিস ও কোরানের তাফসীর যা তুমি কি বুঝবে ? বা জানবে ? শোন আমি একটু বাইরে যাচ্ছি তুমি বসে এই কিতাবগুলো পাহারা দাও, পরে রুমী এসে দেখে ওনার কিতাব গুলো আগের জায়গায় আর নাই তখন পাগলকে প্রশ্ন করলে পাগল দয়াল সামস এ তাবরীজ (রঃ) বলেন, "যা আমি বুঝি নাহ তা সামনে রাখি নাহ" তাই ঐ কুপে আমি সব কিতাব ফেলে দিয়েছি এইকথা শুনে রুমি ত প্রায় তাকে মারার উপক্রম করে বলে তুমি করছ কি!! আমার সারা জীবনের কামাই এই মহা মূল্যবান হাদিস ও কোরআনের তাফসীর তুমি এক নিমিষেই পানিতে ফেলে দিলে!!

রুমির এমন কথায় দয়াল পাগল ওনাকে কুপের সামনে নিয়ে যেয়ে পাগল নিজে পানি ভর্তি কুপে নামে আর পানিতে না ডুবে ভেসে আছে আর একটা একটা করে সেই কিতাব গুলি পানি থেকে তুলে রুমির হাতে দিচ্ছে অথচ সব গুলিই ছিল একবারে শুকনা । এই আজব কাণ্ড দেখে রুমী ত অবাক সেই আগের বই শুকনা আবার পাগল পানিতে ভাসছে ডুবলোনা, উনি বললেন, এটা আপনি কি দেখাইলেন পরে পাগল বলল, রুমি এইবার শুনো "আমি যা জানি তুমি তা জান না"।

তখনরুমি বুঝতে পেরে ওনার পায়ে পরে যান আর ওনার প্রেমে পাগল দিওয়ানা হয়ে মুরিদ হন। যেই মওলানা রুমী (র) কে আলেমদের আলেম বলা হয় কোন আলেম ওনার সামনে কোরআন হাদিস নিয়ে কোন একটু তর্ক করার সাহস পেত না। তাই মাওলানা রুমী বিখ্যাত মসনবিতে বলেছেন - "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আসল রুমি হতাম না যদি আমি আমার দয়াল পীর পাগল সামস এ তাবরীজ (রঃ) এর গোলামি না করতাম "।

২য় ঘটনাঃ

হযরত বায়েজিত বোস্তামি (র) কে ত আর
নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না ।
ওনার জীবনে উনি শরিয়তের জ্ঞান লাভ
শেষে ভাবলেন কি যেন অপূর্ণ রয়ে গেল তাই
ওনি ইলমে মারেফত শিক্ষার জন্য ইমাম বংশের
৬ তম ইমাম হযরত জাফর আস সাদেক (আঃ) আর কাছে মুরিদ হলেন ।

পীরের নির্দেশে পীরের বাড়িতে এক ঘরে ৪  বছর আধ্যাতিক সাধনা করার পর পীর বলল, ঐ ঘর থেকে কোরআন শরীফ নিয়ে আসো। উনি তাই এনে পীরের হাতে দিলেন আর পীর বললও তোমার সাধনা সফল হয়নি যাও আবার ৪ বছর সাধনা কর।দেখা গেল একই ঘটনা আবারও ঘটলো উনি কোরআন আনলেন আর হাতে দিলেন এবারও একই উত্তর সাধনা হয়নি।

শেষমেশ ১২ বছর পর যখন ৩য় বার বললেন,যাও ওই ঘর থেকে কোরআন শরীফ নিয়ে এসো এবার বোস্তামি (র) কোরআন এনে খালি হাতে ফিরলে পীর কারন জানতে চাইলে হযরত বায়েজিত বোস্তামি (র)পীরকে বললেন "হুজুর আমি তো ঐ ঘরে কোরআন শরিফ কোথাও দেখলাম না কারন যেই খানেই তাকাই দেখি খালি তাই বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরে আসলাম "। আপনি আমায় ক্ষমা করুন ।পরে দয়াল পীর ইমাম হযরত জাফর আস সাদিক (আঃ) বললেন, -
"যাও এ বার তোমার সাধনা সফল হয়েছে "।

সারবস্তুঃ
কোরআন কিতাব,পড়ে জাহেরা আলেম হয়ে লোকের নিকট সম্মান পাওয়া যায়।কিন্তু আল্লাহর জাতের সাথে মিশা যায় না। মহান আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে হলে কোন কামেল অলি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে ইলমে তাসাউফ তথা মারফত শিক্ষা করা প্রত্যেক নর নারীর জন্য অত্যাবশকীয়।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ