
মহান আল্লাহ্ তায়ালা মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করে । তার প্রতিনিধির মর্যাদা দিয়ে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন । কিন্তু মানুষ পৃথিবীতে এসে । নফসের তাড়নায় ও শয়তানের ধোকায় পড়ে পরম স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ্ তায়ালাকে ভুলে গিয়ে নানাবিধ পাপাচারে লিপ্ত হয় । ফলে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ায় মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি । পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর পথহারা মানুষদের উদ্ধার করে সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার জন্য অনাদিকাল থেকে অগণিত মহামানব প্রেরণ । করেছেন । পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে , “ আমি আমার সৃষ্টির ( মানুষ ) মাঝে এমন একদলকে সৃষ্টি করেছি , যারা মানুষকে সৎপথ প্রদর্শন করবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে ” ( সূরা - আরাফ , আয়াত - ১৮১ ) । আল্লাহ তায়ালার মনােনীত এ সকল মহামানবকে । নবুয়তের যুগে বলা হতাে - নবী ও রাসূল এবং বেলায়েতের যুগে বলা হয় - অলী | আল্লাহ্ । পৃথিবীতে প্রেরিত নবী - রাসূলগণের মাঝে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ( সঃ ) ছিলেন । সর্বকালের , সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসূল । তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন , “ ( হে হাবীব ) আমি আপনাকে জগৎসমূহের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি ” ( সূরা - আম্বিয়া , আয়াত - ১০৭ ) । | হযরত রাসূল ( সঃ ) আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে মানব জাতিকে দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ । ' জীবন বিধান । পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে , “ আজ আমি তােমাদের ধর্মকে পূর্ণ করে । দিলাম , এতে আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তােমাদের ধর্ম হিসেবে মনােনীত করলাম ” ( সূরা মায়েদা , আয়াত - ৩ ) । বিশ্বনবী হযরত রাসূল ( সঃ ) - এর আদর্শ ও শিক্ষা তথা - মােহাম্মদী ইসলাম অনুসরণ করে মুসলিম জাতি । পথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদায় উন্নীত হয়েছিল । মােহাম্মদী ইসলামের শিক্ষার চারটি । দিক রয়েছে । হযরত রাসূল ( সঃ ) ফরমান , “ শরীয়ত আমার বাক্য , তরীকত আমার কাজ , হাকীকত আমার অবস্থা ও মারেফাত আমার নিগূঢ় রহস্য ” অর্থাৎ - মােহাম্মদী ইসলামের নিয়মানুযায়ী একজন মুসলমান শরীয়ত , তরীকত , হাকীকত ও মারেফাত - এ চারটি দিকের সাধনা করে মু'মেনে কামেল হয়ে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারে।
0 মন্তব্যসমূহ