ওলি শব্দ নিয়ে সুরা আরাফের ৩ নং আয়াতের অপব্যাখ্যার জবাব।

ওলি শব্দ নিয়ে সুরা আরাফের ৩ নং আয়াতের অপব্যাখ্যার জবাব।

আল্লাহর অলিদের চির শত্র ওহাবী আকিদার লোকেরা সূরা আরাফের ৩নং আয়াতে কারীমার ভুল ব্যক্ষা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

ওহাবীরা ও আহালে হাদিসরা এর অর্থ করছে, “তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে –তার অনুসর করো এবং তাঁকে ছাড়া কোন ওলি বা পীরের অনুসরণ কর না।”

এই অর্থটি করে তারা কুরআনকে পরস্পরবিরোধ আয়াতের ভান্ডার বলে প্রমান করতে চায়। কুরআনের একাদিক স্থানে আল্লাহ তার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলেছেন এরং তাদের অনুসরন করতে বলেছেন, আর আহালে সুন্নত ওয়ালা জামাত এর অর্থ করেছে“তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া সাথিদের/ বন্ধুদের/ওলীদের অনুসরণ করো না তোমরা কমই খেয়াল করে থাক।”

সূরা আরাফ, আয়াত ৩।

সূরা আরাফ, আয়াত ৩ এর ব্যক্ষাটি আল্লাহ কুরআন দিয়েই  দিয়েছে। এই আয়াতটি যদি আল্লাহর ওলীদের বর্জনীয় মর্মে নাজিল করা হতো তাহলে, কুরআনের বহু আয়াতকে বর্জন করতে হবে।

ওয়ালী বা ওলী শব্দটির অর্থ
প্রিয়জন, বন্ধু, মালিক, অনুগত, শাসক,অভিভাবক বা কর্তা।

(সূত্রঃ প্রসিদ্ধ আরবী-ইংরেজী অভিধান “আল মাওয়ারিদ” অনুসারে ওলী শব্দের অর্থঃ Guardian, Patron, Friend, Companion, Associate, Defender, Custodian)
ওলী শব্দটি একবচন, বহুবচনে আউলিয়া।

#আল_কোরআনে_ওলী_শব্দের_ব্যবহার

কোরআনুল কারীমে ওয়ালী শব্দটি কয়েকটি অর্থে এক বচনে, ওয়ালী, ওয়ালীয়ান, ওয়ালিয়্যুকুম ওয়ালীয়্যুনা, ওয়ালিয়্যুহুম, ওয়ালীয়্যুহুমা এবং ওয়ালিয়্যি আকারে সর্বমোট ৪৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে।

এই শব্দগুলো
আল-কুরআনে আল্লাহ নিজে, নেককার বেক্তি এবং শয়তানের – উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন।

আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের ভালোভাবে জানেন। বন্ধুত্ব ও অভিভাবকত্বে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

#সূরা_নিসা :আয়াত ৪৫, পারা ৫, রুকু ৭

এখানে আল্লাহ নিজের জন্য ওলী শব্দ ব্যবহার করেছেন।

: ‘আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তৎপর তার জন্য কোন বন্ধু বা অভিভাবক নেই, জালিমরা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তুমি তাদেরকে বলতে শুনবে, প্রত্যাবর্তনের কোন উপায় আছে কি?

 #সূরা_শূরা : আয়াত ৪৪, পারা ২৫, রুকু ৫
এই আয়াতে ওলী শব্দের অর্থ বন্ধু বা অভিভাবক। এখানে আল্লাহর তার প্রিয় নেককার বান্ধাদের বুঝাতে ওলী শব্দ ব্যাবহার করেছেন।

আল্লাহর পরিবর্তে কেউ শয়তানকে (ওলী)অভিভাবক ও বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে পত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(সূরা নিসা : আয়াত ১১৯, পারা ৫)
এখানে শয়তানে ক্ষেত্রে ওলী(বন্ধু) শব্দ ব্যবহার হয়েছে।

#ব্যাখ্যাঃ
১.সূরা নিসার ১১৯ নং আয়াতের তাফসীর হচ্ছে নিচের আয়াত-
কাফিরদের জন্য (ওলী)সাহায্যকারী হচ্ছে শয়তান”
 #সূরা_বাক্বারা, আয়াত ২৫৭।

অর্থাৎ শয়তান হচ্ছে আল্লাহ ব্যতীত অন্য বন্ধু। তাকে বন্ধু বানানো কুফর।

২. পক্ষান্তরে, আল্লাহ্'র ওলীগণকে বন্ধুরুপে গ্রহণ না করা বে-দ্বীনী বা ধর্মহীনতা।

হাদিসে আছে- “অর্থাৎ যে আমার বন্ধুর প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘেষণা করলাম”

৩. অন্যত্র মহান রব এরশাদ ফরমান-

“অর্থাৎ আমি শয়তানদেরকে তাদেরই বন্ধু(ওলী) করেছি, যারা ঈমানদার নয়।”

 #সূরা_আরাফ, আয়াত ২৭।

মোটকথা, শয়তান কাফিরদেরই ওলী মিন দুনিল্লাহ। (আল্লাহ ব্যতীত অন্য বন্ধু)। অধিকাংশ স্থানে ‘মিন-দুনিল্লাহ’ মানে এটাই।

৪.“নিশ্চয় তারা শয়তানদেরকে আউলিয়া মিন্ দুনিল্লাহ (আল্লাহর মোকাবেলায় বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে।”
সূরা আরাফ, আয়াত ৩০।

 বিশ্বের প্রথম তাফসির গ্রন্থ 'তাফসিরে ইবনে আব্বাস'।

 তাফসীরে ইবনে আব্বাসে এ আয়াতে কারীমার তাফসীরে হুবহু যা লেখা আছে তার বাংলা হচ্ছে,
১.“তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে – তার অনুসরণ কর”, এর মানে হচ্ছে, কুরআনে নিদের্শিত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জানো।

২. আর “তাঁকে ছাড়া ওলীদের (আওলিয়ার) অনুসরণ করো না”, এর মানে হল, আল্লাহ্তালা ও তার প্রিয় নেককার বান্দা ছাড়া মূর্তিদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে তাদের ইবাদত করবে না। বা আল্লাহ ও আল্লাহর নেককারা বান্দা ব্যাতিত শয়তানকে অলী রুপে গ্রহন করবে না।

৩. আর “তোমরা কমই খেয়াল করে থাক”, এর মানে হচ্ছে, তোমরা অল্প বা বেশি কোন উপদেশই গ্রহণ কর না।”

৪.ওলী (বহুবচনে আওলিয়া) শব্দটিকে আল্লাহ তা'আলা আল- কুরআনে তাঁর নিজের এবং শয়তান – উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন।

যেমন-
যারা ঈমান এনেছে – তাদের ওলী হচ্ছেন, আল্লাহ; তিনি তাদের আঁধার রাশি থেকে নূরের দিকে বের করে আনেন; আর যারা কুফরি করেছে  তাদের আওলিয়া হচ্ছে, তাগুতরা (শয়তানরা)
তারা তাদের নূর থেকে আঁধার রাশির দিকে নিয়ে যায়।তারাই দোযখবাসী (আসহাবুন নার) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

#সূরা_আল-বাকারাহ, আয়াত ২৫৭।

কাজেই, “ওলী” শব্দটি আল-কুরআনে ভালো-মন্দ সবার ক্ষেত্রে কম-বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

আর উল্লিখিত আয়াতে কারীমায় (সূরা আরাফ, আয়াত ৩) মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

৫. আবার ওলীআল্লাহদের ক্ষেত্রেও বলা হয়েছে, আল্লাহর ওলীদের (আওলিয়াউল্লাহু) কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

 #সূরা_ইউনুস, আয়াত ৬২।

সুতরাং ওলী শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনোই অবকাশ নেই।

আল্লাহু তা’লা পরিষ্কার করেই বলেছেন,

যারা ঈমান এনেছ–তাদেরকে বলছি! তোমরা আল্লাহ্'র তাবেদারী করবে এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্যে হুকুমদাতাদের তাবেদারী করবে। তবে কোন ব্যাপারে তোমাদের মাঝে মতবিরোধ হলে–তোমরা যদি আল্লাহ্ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হও–তাহলে তা (মতবিরোধের বিষয়টি) আল্লাহ ও রাসূলের সমীপে পেশ করবে। উহাই কল্যাণকর এবং এর ফলাফল খুবই ফলপ্রসূ।
 সূরাহ্ আন নিসা, আয়াত ৫৯।

এ আয়াতে কারীমায় ৩টি আনুগত্য বা তাবেদারীর কথা পরিষ্কার করেই বলা আছে।
১. আল্লাহ্ আনুগত্য
২. রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
     আনুগত্য
৩. হুকুমদাতা-বিচারক তথা আল্লাহ্ পাকের প্রিয়ভাজন নেহকার বান্দাদের আনুগত্য।
কাজেই, ক্বুরআ'নুল কারিমে ওলী শব্দের নেতিবাচক প্রয়োগের উদাহরণ টেনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই।

সূরা আল আরাফের ৩ নং আয়াতে যে আওলীয়া শব্দটি এসেছে, তা আাল্লাহ বা আল্লাহর ওলীদের বর্জনিয় মর্মে নয়। তা এসেছে শয়তানকে (ওলী)বন্ধু রুপে গ্রহন না করার সতর্ক বানী রুপে।

কিছু কিছু লোক এই আয়াতটি দেখিয়ে আল্লাহর ওলীদের নিকট যেতে নিষেধ করে থাকে। যা পথ ভ্রষ্টতা ব্যাতিত বা শয়তানের ধূকা ব্যাতিত আর কিছুই নয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ