#ফজর_নামাজঃ হযরত আদম আঃ যখন বেহেস্ত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন রাতের অন্ধকারে তিনি ভীত হয়ে পড়েন, কেননা বেহেস্তে থাকাকালীন অন্ধকার কি জিনিস তা দেখেন নি।আবার সকালে যখন রাত দূর হয়ে আলোর নিশানা তিনি খুঁজে পেলেন তখন তিনি খুশি হন।এই খুশির কৃতজ্ঞতাস্বরুপ তিনি ২ রাকাত নফল নামাজ পড়েন যা পরবর্তীতে তাঁর উম্মতদের জন্য এই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে আহকামাত আয়াতের মাধ্যমে এটি উম্মতে মোহাম্মদীর উপর (ফজরের নামাজ হিসেবে) ফরজ হয়।
#জোহরের_নামাজঃ হযরত ইব্রাহিম আঃ যখন হযরত ইসমাইল আঃ কে কুরবানীর জন্য মাটিতে শোয়ালেন তখন তিনি ২টি বিষয় চিন্তা করেনঃ ক)কিভাবে তিনি আল্লাহর আদেশ পালন করবেন খ)হযরত ইসমাইল আঃ এর মাতা বিবি হাজেরাকে তিনি কি জবাব দিবেন।
এমন সময় আল্লাহপাক বেহেস্ত থেকে দুম্বা প্রেরণ করে হযরত ইব্রাহিম আঃ এর চিন্তা দূর করলেন।তখন ইব্রাহিম আঃ যোহরের ওয়াক্তে শোকরিয়ার নিয়তে ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন যা পরবর্তীতে তাঁর উম্মতদের জন্য এই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে আহকামাত আয়াতের মাধ্যমে এটি উম্মতে মোহাম্মদীর উপর (যোহরের নামাজ হিসেবে) ফরজ হয়।
#আছরের_নামাজঃ হযরত ইউনুছ আঃ কে যখন সমুদ্রে বিশাল আকৃতির মাছ খেয়ে ফেলেছিল তখন তিনি আল্লাহর দরবারে মুক্তির প্রার্থনা করলে আল্লাহর হুকুমে মাছের পেট হতে মুক্তি লাভ করে।মুক্তির পর কৃতজ্ঞতাস্বরুপ তিনি আসরের ওয়াক্তে ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।যা পরবর্তীতে তাঁর উম্মতদের জন্য এই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে আহকামাত আয়াতের মাধ্যমে এটি উম্মতে মোহাম্মদীর উপর (আছরের নামাজ হিসেবে) ফরজ হয়।
#মাগরিবের_নামাজঃ হযরত ইয়াকুব আং তাঁর পুত্র হযরত ইউছুফ আঃ এর জন্য রোদন করতে করতে অন্ধ হয়ে যায়।তারপর ৪০ বছর পর হযরত ইউছুফ আঃ এর জামা নিয়ে পিতার চোখের উপর রাখার সাথে সাথে ঐ জামার বরকতে আল্লাহর মর্জিতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।অতঃপর সেই খুশিতে শোকরিয়া আদায়ের জন্য তিনি মাগরিবের ওয়াক্তে ৩ রাকাত নামাজ পড়েন।যা পরবর্তীতে তাঁর উম্মতদের জন্য এই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে আহকামাত আয়াতের মাধ্যমে এটি উম্মতে মোহাম্মদীর উপর (মাগরিবের নামাজ হিসেবে) ফরজ হয়।
#এশার_নামাজঃ হযরত মুসা আঃ বনি ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে মিসর হতে রওনা হয়ে যখন নীলনদের তীরে আসলেন তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন কিভাবে নদী পার হবেন।তখন আল্লাহপাকের মর্জিতে ঐ নদীর মাঝে রাস্তা তৈরি হয়ে যায়।সেই রাস্তা ধরে তাঁরা নদী পার হলেন।তাঁদের পিছু নেয়া ফেরাউনের দল ঐ রাস্তা ধরে পার হতে গিয়ে নদীর মাঝখানে এসে ডুবে মারা যায়।উক্ত বিপদ হতে মুক্তিলাভের শোকরিয়া আদায়ে মূসা আঃ এশার ওয়াক্তে চার রাকাত নামাজ পড়েছিলেন।যা পরবর্তীতে তাঁর উম্মতদের জন্য এই ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে আহকামাত আয়াতের মাধ্যমে এটি উম্মতে মোহাম্মদীর উপর (এশার নামাজ হিসেবে) ফরজ হয়।
*তাহাজ্জুদের নামাজঃ ৫ ওয়াক্ত অন্যান্য নবীদের নামাজ, কিন্তু এই তাহাজ্জুদের নামাজ এমন এক মর্তবার নামাজ যে নেয়ামত সেটা আমাদের নবী দঃ ছাড়া আর কাউকে দেয়া হয়নি।যা রাসুলের দঃ জন্য আদায় করা ফরজ ছিল, তিনি উম্মতের কষ্টের কথা ভেবে তা সুন্নত হিসেবে শিথিল করে দিয়েছেন।
আশেকে মাইজভাণ্ডারীরা অনেকেই ওয়াক্তিয়া নামাজের পাশাপাশি রাসুলের দঃ অনুসরণে 'ত্বরিকার দর্শন' হিসেবে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে থাকেন।
সূত্রঃ "সিজদা ও তাজীমের বিধান"
1 মন্তব্যসমূহ
খুবই ভাল লাগল
উত্তরমুছুন