আমি আপন উম্মতের মধ্যে গুপ্ত শেরেক ও গুপ্ত কামের আশঙ্কা করি।

হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন– “আমি আপন উম্মতের মধ্যে গুপ্ত শেরেক ও গুপ্ত কামের আশঙ্কা করি। তৎশ্রবণে হজরত মো’য়াজ (রা.) বলিলেন হজরত, আপনার উম্মত আপনার পরে কি শেরেক করিবে? তিনি বলিলেন অবশ্য করিবে, কিন্তু তাহারা চন্দ্র সূর্য্য প্রস্তর ও প্রতীমা পূজা করিবে না বরং তাহারা লোক দেখাইবার জন্য সৎকার্য্য করিবে।”

প্রকাশ্য দান অপেক্ষা গোপনে দান করা উৎকৃষ্ট। ইহাতে রীয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হাদিসে আছে “উচ্চস্বরে জেকের অপেক্ষা গুপ্ত জেকের ৭০ গুণ অধিক ফললাভ হয়।”
তিরমিজী শরীফে আছে যে সময় খোদাতায়ালা ভুতল সৃষ্টি করিয়াছেন উহা কম্পিত হইতেছিল, তখন খোদাতায়ালা পর্বতমালা সৃষ্টি করতঃ উহার উপর স্থাপন করিলেন, ইহাতে ভূখণ্ড স্থির হইয়া গেল।  ফেরেশতাগণ পর্বতমালার কঠিন ভাব দর্শনে আশ্চার্য্যাম্বিত হইয়া বলিলেন হে আমাদের প্রতিপালক তোমার সৃষ্টির মধ্যে পর্বতমালা অপেক্ষা কঠিনতর কোন বস্তু আছে কি? তদুত্তরে খোদাতায়ালা বলিলেন– অবশ্য আছে,– লৌহ। তাহারা বলিলেন হে প্রতিপালক, তোমার সৃষ্টির মধ্যে লৌহ অপেক্ষা কঠিনতর আর কোন বস্তু আছে কি? তিনি বলিলেন অবশ্য আছে– অগ্নি। তৎশ্রবণে তাহারা বলিলেন, হে প্রতিপালক তোমার সৃষ্টির মধ্যে অগ্নি অপেক্ষা তীক্ষ্ণতর কোন বস্তু আছে কি? তদুত্তরে তিনি বলিলেন আছে অবশ্য পানি। তাহারা বলিলেন হে প্রতিপালক, পানি অপেক্ষা অধিক বলশালী কোন বস্তু আছে কি? তিনি বলিলেন অবশ্য আছে ঝটিকা। তাহারা বলিলেন ঝটিকা অপেক্ষা অধিকতর বলবান কোন বস্তু আছে কি? তিনি বলিলেন অবশ্য আছে– যে দান আদম সন্তান দক্ষিণ হস্তে করিয়া বাম হস্ত হইতে গোপন রাখিতে পারে।

[ তথ্য সূত্রঃ– ছেররোল কোরআন, পৃষ্ঠা ৩৭২-৩৭৩। লেখক –খাজা শাহ মোঃ মনছুর আলি আল্ চিশতি নেজামি]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ