হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনা ছায়া মুবারক দেখা যেত না

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনা ছায়া মুবারক দেখা যেত না

১. বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাকীম তিরমীযি (রহ:)বর্ননা করেন:
ان رسول الله صلي الله عليه و سلم لم يكن يري له ظل في شمس ولاقمر

অর্থ: নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক দেখা যেত না।”
[নাওয়াদেরুল উছুল]
তাবেয়ী হযরত যাক্ওয়ান (রা:) বলেন,
انًّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولا قمر
অর্থঃ হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর ছায়া না সূযালোকে দেখো যেতো না চন্দ্রালোকে।
***দলিল***
*১. তিরমিযী ফি নাওয়াদিরিল উসূল
*২.যুরকানী আলাল মাওয়াহিব, ৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা-২৪০

২. ইমামুল মুহাদ্দিসিন, ফক্বীউল মিল্লাত,আল্লামা হযরত মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) আরেকটি সনদে হাদিস শরীফ বর্ননা করেন:

وفي حديث ابن عباس قال لم يكن لرسول الله صلي الله عليه و سلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقع مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন,হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক ছিলো না, এবং সূর্যের আলোতেও কখনো উঁনার ছায়া পড়তো না। আরো বর্নিত আছে, উঁনার নূর সূর্যের আলোকে অতিক্রম করে যেত। আর বাতির আলোতেও কখনো উঁনার ছায়া মুবারক পড়তো না। কেননা,উঁনার আলো বাতির আলোকেও ছাড়িয়ে যেত।”
[জামউল ওয়াসিল ফি শরহে শামায়িল ২১৭ পৃষ্ঠা]

★৩. হাফিজুল হাদীস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী(রহঃ)বর্ণনা করেন:
اخرج الحكيم الترمذي عن ذكوان في نوادر الا صول ان رسول صلي الله عليه و سلم لم يكن يراي له ظل في شمس ولا قمر

অর্থ: হযরত হাকীম তিরমীযি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ” নাওয়াদিরুল উছুল” নামক কিতাবে জাকওয়ান থেকে বর্ননা করেন,নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক দেখা যেত না।”
[খাছায়েছুল কুবরা,১ম খন্ড,১২২ পৃষ্ঠা]

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাব ‘খাসায়েসুল কুবরায়’ হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর ছায়া ছিল না এই বিষয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এবং এই যাক্ওয়ানের হাদীস বর্ণনা করতঃ বলেন,
قال ابن سبع من خصائصه صلى الله عليه وسلم انّ ظله كان لا يقع على الارض وانه كان نورا فكان اذا مضى فى الشمس او القمر لاينظر له ظل
অনুবাদঃ ইবনে সাবা বলেছেন, এটা হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্গত যে,হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর ছায়া যমীনে পড়তো না এবং তিঁনি ছিলেন সম্পূর্ণ নূর। তিঁনি যখন সূযালোক কিংবা চন্দ্রালোকে চলতেন, তাঁর ছায়া দেখা যেতো না।
*******দলিল******
*১.যুরকানী আলাল মাওয়াহিব, ৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা-২০২
*২.খাসায়েসুল কুবরা,১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৬৮

★৪. বিখ্যাত আলেমে দ্বীন, শায়খুল উলামা,মুহাদ্দিস, আল্লামা ইব্রাহিম বেজরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

وفي حديث ابن عباس قال لم يكن لرسول الله صلي الله عليه و سلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقع مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন,হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক ছিলো না, এবং সূর্যের আলোতেও কখনো উঁনার ছায়া পড়তো না।আরো বর্নিত আছে,উঁনার নূর সূর্যের আলোকে অতিক্রম করে যেত। আর বাতির আলোতেও কখনো উঁনার ছায়া মুবারক পড়তো না। কেননা,উঁনার আলো বাতির আলোকেও ছাড়িয়ে যেত।”
[আল মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া আলা শামায়েলে মুহম্মদীয়া ১০৫ পৃষ্ঠা]

★৫. হাফিয আল্লামা ইবনে জাওযী মুহাদ্দিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবুল ওয়াফায় বর্ণনা করেন-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه لم يكن للنبى صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقع مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া ছিলনা। আর তিঁনি সূর্যের আলোতে দাঁড়ালে কখনো ছায়া পড়তো না। কেননা উঁনার নূর মুবারক উনার উজ্জ্বলতা সূর্যের রশ্মিকে অতিক্রম করে যেতো। কোন জলন্ত বাতির সামনে বসলেও কখনো ছায়া পড়তো না কারণ উঁনার উজ্জ্বল নূর মুবারক,বাতির আলোকেও ছাড়িয়ে যেতো।”
*****দলিল****
*১. কিতাবুল ওয়াফা
*২.জুরকানি আলাল মাওয়াহিব,৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা-২২০, শরহে শামায়িল লিল্ মুনাদী,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা-৪৭

★৬. ইমাম যুরকানী (রহ:) বলেন,

لم يكن له صلى الله عليه و سلم ظل في شمس و لا قمر لانه كان نورا-
অর্থ :“সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা।কেননা,তিঁনি ছিলেন আপদমস্তক নূর”।
[যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০]

#হযরত আল্লামা সাইয়্যিদ যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়া শরীফে বর্ণনা করেছেন-
لم يكن له صلى الله عليه وسلم ظل فى شمس ولاقمر لانه كان نورا-

অর্থ: “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া ছিল না। কেননা তিঁনি নূর ছিলেন।”(আর নূরের কোন ছায়া নেই)

★৭. বিখ্যাত মুহাদ্দিস,ফক্বীহ, আল্লামা হযরত ইউছুফ নাবহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে লিখেন:
وكان اذا مشي في قمر او شمس لا يظهر له ظل
অর্থ:হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সূর্য ও চন্দ্রের আলোতে হাঠতেন তখন উঁনার ছায়া মুবারক পড়তো না।”
[জাওয়াহিরুল বিহার,১ম খন্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা]

★৮. বাহরুল উলুম,শায়খুল মাশায়েখ,আল্লামা ইবনে সাবা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

ان ظله كان لا يقع علي الارض كان نورا فكان اذامشي في الشمس اوالقمر لا ينظر له ظل
অর্থ: নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক যমীনে পড়তো না।কেননা তিঁনি ছিলেন, নূর। অতঃপর তিঁনি যখন সূর্য ও চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন তখন উঁনার ছায়া মুবারক দৃষ্টিগোচর হতোনা।
[ শিফাউছ ছুদুর]

★৯. বিখ্যাত আলেম, হযরত আল্লামা হুসাইন দিয়ার বিকরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন
لم يقع ظله صلي الله عليه و سلم علي الارض ولايري له ظل في شمس ولا قمر

অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক জমিনে পড়তো না। এবং চাঁদ এবং সূর্যের আলোতেও উঁনার ছায়া মুবারক দেখা যেত না।”
[খামীছ ফি আহওলে আনফুসে নাফীস]

★১০.ইমামুল জলীল, মুহাদ্দিসুশ শহীর,আল্লামা ইমাম কাজী আয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

وَمَا ذُكِرَمِنْ اَنَّهٗ كَنَ لاَ ظِلَّ لِشَخْصِهٖ فِى شَمْسٍ وَلاَ قَمَرٍ لِاَنَّهٗ كَانَ نُوْرًا

নূরের দলিল হিসেবে ছায়াহীন দেহের যে রেওয়াতটি পেশ করা হয়,তা হচ্ছে “দিনের সূর্যের আলো কিংবা রাত্রের চাঁদের আলো কোনটিতে হুযুর(দঃ) এঁর দেহ মোবারকে ছায়া পড়তো না।কারন তিঁনি ছিলেন আপাদমস্তক নূর।”
[শিফা শরীফ,১ম খণ্ড,২৪২ পৃঃ]

#ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (র:) আরও বলেন-

و قد سماه الله تعالى فى و سراجا منيرا فقال تعالي قد جاءكم منالله نور و كتاب مبين و قال تعالى انا ارسلناك شاهدا و مبشيرا و نذيرا و داعيا الى الله باذنه و سراجا منيرا و قال فى غير هذا الموضع انه كان لاظل لشخصه في شمس و لا قمر لانه كان نورا الذباب كان لا يقع على جسده و لا ثيابه-

অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া’লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্‌ মুনীর।যেমন তিঁনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে।আরো ফরমায়াছেন,আঁমি তো আঁপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে,আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না।
না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিঁনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীর ও পোশাক মোবারকে কখনও মাছি পর্যন্ত বসত না।
[শিফা শরীফ ১ম খন্ড,পৃষ্ঠা ২৪২]

★১১. ইমামুল আইম্মা,হাফিজে হাদীস,আহমদ বিন মুহম্মদ খতীব কুস্তালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
رسول الله صلي الله عليه و سلم كي ليءے سايه نه تها دهوپ مين نه چاندني مين

অর্থ: চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক ছিলো না।”
*****দলিল*****
*১.মাওয়াহেবু লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড
*২.মিনহাজে মুহম্মদীয়া

★১২. ইমামুল মুহাদ্দিসিন, শায়খুল উলামা,শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

ونبود مر أنحضرت را صلي الله عليه و سلم سايه نه در افتاب ونه قمر
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক চাঁদ ও সূর্যের আলোতে দেখা যেত না।”
[মাদারেজুন নবুওয়াত,১ম খন্ড,১ম অধ্যায়]

★১৩.ইমামুল জলীল, সাইয়্যিদুল মুফাসসীরিন, আল্লামা মাহমূদ নাসাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

قال عشمان رضي الله غنه ان الله ما اوقع ظلك علي الارض لءلا يضع انسن ان قدمه علي ذالك الظل

অর্থ: আমীরুল মু’মিনিন,হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনাকে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আঁপনার ছায়া মুবারক মাটিতে পড়তে দেন নাই। যাতে মানুষ আঁপনার ঐ ছায়া মুবারকে পা রাখতে না পারে।”

[তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল-সূরা নূরের তাফসীর (তাফসীরে মাদারিক,পৃষ্ঠা-৩২১]

★১৪. ইমামুল আইম্মা,কাইয়ুমে আউয়াল, মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন
اورا صلي الله عليه و سلم سايه نبود در عالم شهادت سايه هر شخص ازشخص لطيف تراست چون لطيف تري ازوي صلي الله عليه و سلم در عالم نباشد او را سايه چه صورت وارد

অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক ছিলো না। প্রত্যেক লোকের ছায়া তাঁর দেহ থেকে সুক্ষ্ম।যখন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার চাইতে আর কোন কিছু সুক্ষ্ম নয়,তখন উঁনার ছায়া মুবারক কি আকার ধারন করতে পারে ?”
[মকতুবাত শরীফ,৩য় খন্ড,১০০ নং মকতুব]

★১৫. আল্লামা সুলায়মান জামাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
لم يكن له صلي الله عليه و سلم ظل يظهر في شمس ولا قمر

অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক ছিলনা।এমনকি চাঁদ এবং সূর্যের আলোতেও উঁনার ছায়া মুবারক প্রকাশ হতো না।”
[ফতুহাতে আহমদিয়া শরহে হামজিয়া]

★১৬. তাজুল মুফাসসীরিন, ফক্বীহুল আছর,আল্লামা শাহ আব্দুল আযীজ মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
سايه ايشان بر زمين نمي افتاد

অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক মাটিতে পড়তো না।”
[তাফসীরে আযীযি-৩০ পারা- সূরা আদ দ্বুহা উনার তাফসীর]

★১৭. বিখ্যাত সুফী সাধক, আল্লামা জালালুদ্দীন রুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
چو فناشي از فقر. پيرا يه او محمد. وار بے سايه بود

অর্থ: যে ব্যক্তি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার জাত মুবারকে ফানা হবে,সে ব্যক্তিও উঁনার মত ছায়াহীন হয়ে যাবে।
[মসনবী শরীফ]

★১৮. আল্লামা ইমাম রাগিব ইস্পাহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
ومن اسماءه صلي الله عليه و سلم النور قبل من خصاءصه صلي الله عليه و سلم انه اذا مشي في الشمس لاينظر له ظل

অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নাম মুবারক উঁনাদের মধ্যে একটি নাম মুবারক হলো নূর। বলা হয়েছে, উঁনার বৈশিষ্ট্য সমূহের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য এই, উঁনি রোদে গেলে উঁনার ছায়া মুবারক দৃষ্টিগোচর হতো না।”
[মুফরাদাত ৩১৭ পৃষ্ঠা]

★১৯. বাহরুল উলুম,হযরত শায়েখ মুহম্মদ তাহের রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

من اسماءه صلي الله علي و سلم النو ر قبل من خصاءصه صلي الله عليه و سلم انه اذا مشي في ااشمس والقمر لا يظهر له ظل
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নাম মুবারক সমূহ থেকে একটি নাম মুবারক হলো,নূর। বলা হয়, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার বৈশিষ্ট্য সমূহ থেকে একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সূর্য ও চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন উঁনার কোন ছায়া মুবারক প্রকাশ পেত না।”
[মাজমাউল বিহার]

★২০. শায়খুল উলামা,হযরতুল আল্লামা,মুহম্মদ ইউসুফ শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন

الامام الحيم قال معناه لءلا يطأ عليه كافر فيكون مذلة له

অর্থ: ইমাম হযরত হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া মুবারক না থাকার হিকমত এই যে, যাতে কোন বিধর্মী কাফেরেরা উঁনার ছায়া মুবারকের উপর পা রাখতে না পারে।”
[সুবহুল হুদা ওয়ার রশীদ আল মারুফ বিহী ” সীরাতে শামী” ২য় খন্ড ১২৩ পৃষ্ঠা]

★২১. আলা হযরত আহমদ রেযা খান বেরলুভী(রহঃ) হাদায়েক বখশিস গ্রন্থে ২য় খণ্ডের ৭পৃঃ ছন্দে লিখেন “হে প্রিয় রাসূল!আপঁনিতো আল্লাহর নূরের প্রতিচ্ছবি বা ছায়া।আঁপনার প্রতিটি অংগই এক একটি নূরের টুকরা।নূরের যেমন ছায়া হয় না,তদ্রুপ ছায়ার ও প্রতিচ্ছায়া হয় না”।কাজেই আঁপনার ও প্রতিচ্ছায়া নেই কেননা আঁপনি নূর এবং আল্লাহর নূরের ছায়া।

★২২. হাফিজে হাদীস,ওলীয়ে কামিল,হযরত ইবনে হাজর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন:
انه صلي الله عليه و سلم صار نورا انه كان اذا مشي في الشمس و لا يظهر له ظل
অর্থ: নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূর ছিলেন। নিশ্চয়ই তিঁনি যখন চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন উঁনার ছায়া মুবারক প্রকাশ পেতো না।”
[আফদ্বালুল ক্বোরা]

#তিনি উক্ত কিতাবে আরও বলেন,
ومما يؤيد انه صلى الله عليه وسلم ضاء نورا انه كان اذا مشى فى الشمس و القمر لا يظهر له ظل لانه لا يظهر الا الكثيف وهو صلى الله عليه وسلم قد خلصه الله من سائر الكثا فات الجسمانية وسيره نورا صرفا لا يظهر له ظل اصلا

অনুবাদঃ হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পূর্ণ নূর হওয়ার সমর্থন এ থেকে হয় যে,সূযালোকে কিংবা চন্দ্রালোকে তাঁর ছাঁয়া হতো না। কারণ ছাঁয়া তো হয় জড় দেহের আর হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা’আলা সকল শারীরিক জড়তা থেকে নিখুঁত করতঃ সম্পূর্ণ নূরে পরিপূর্ণ করেছিলেন। অতএব হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ‍ওয়া সাল্লাম-এঁর কোন ছাঁয়া ছিল না।
[আফদ্বালুল ক্বোরা]

★২৩. ফক্বীহে মিল্লাত হযরত আল্লামা মুফতী জালালুদ্দীন আহমদ আমজাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়ায়ে ফয়জুর রসূল কিতাবের প্রথম খণ্ডের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন

بیشک حضور پرنور سر کار اقدس صلی اللہ علیہ وسلم کی جسم اقدس کا سایہ نھیں پڑتا تھا جیسا کہ حدیث شریف میں ھی لم یکن لہ ظل لا فی الشمس ولا فی القمر یعنی سورج اور چاندکی روشنی میں حضور کا سایہ نھیں پڑتا تھا-

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পূর নূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার পবিত্র জিসিম মুবারকের ছায়া (যমীনে) পড়তো না।যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে বর্ণিত আছে যে, চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন,নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার ছায়া পড়তো না।”

★২৪. বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শিহাবুদ্দীন খাফফাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন

من دلاءل نبوته صلي الله عليه و سلم ماذكر من انه لا ظل لشخصه لشخصه اي جسده الشريف اللطيف اذاكان في شممس او قمر لانه صلي الله عليه و سلم نور
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নবুওয়াত মুবারকের প্রমানের মধ্যে একটি প্রমান যে,উঁনার শরীর মুবারকের ছায়া মুবারক ছিলো না। যখন তিঁনি চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া মুবারক পড়তো না। কেননা তিঁনি (আপাদমস্তক) নূর।”
[নাসীমুর রিয়াজ]

★২৫. ওলীউল কামিল,আল্লামা মুহম্মদ বিন ছিবান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন :
وانه لا فييء له
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার খাছ বৈশিষ্ট্য এই যে, উঁনার ছায়া মুবারক ছিলো না।”
[ইসআফুর রাগেবীন]

★২৬. ওহাবীদের নেতা আশরাফ আলী থানবী ও বলেছেন
يه بات مثهور ھے كه ھمارے حضرت صلي عليه و سلم كے سایه نهيی تها ( اسلءے كه) همارے حضرت صلي الله عليه و سلم صرتاپا نور هي نور تہے

অর্থ:একথা প্রসিদ্ধ যে ,হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার শরীর মোবারকের ছায়া ছিলো না।কেননা হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপাদমস্তক নূর বা মাথা মোবারক হতে পা পর্যন্ত শুধু নূর আর নূর ছিলেন তথা নূরে মুজাসসাম !”
[শুকরুন নি’মাহ ৩৯পৃ:]

#দেওবন্দের ওলামাগণ অর্থাৎ ওহাবীরা যাকে হাকিমুল উম্মত উপাধিতে ভূষিত করে থাকেন তিনি হলেন মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (মৃতঃ১৩৬২ হি.)।মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেব এর অন্যতম সিরাত গ্রন্থ “ নশরুত্তীব ফি যিকরেন্নাবিয়িল হাবিব” এর ২৫ পৃষ্টায় রাসূল (ﷺ) নূরের সৃষ্টি মর্মে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন।এই কিতাবটি বাংলা অনুবাদও করেছে ওহাবীরা, নাম দিয়েছে “যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা” অনুবাদ করেছেন সাবেক ইমাম ও খতিব লালবাগ শাহী মসজিদ, মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

#যাক আশরাফ আলী থানবী অধ্যায়টির নাম দিয়েছেন, “নূরে মোহাম্মদী (ﷺ)-এঁর বর্ণনা”।👏
তারপর মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেব হযরত জাবের (রা:) এর হাদিস এভাবে বর্ণনা শুরু করেন-“প্রথম বর্ণনাঃ জাবের رضي الله عنه হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি আরজ করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মাতা পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ।আমাকে বলুন,আল্লাহ তা’আলা সবকিছুর পূর্বে কি সৃষ্টি করেছেন? হুজুর (ﷺ) ফরমালেন, হে জাবের! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছুর পূর্বে তাঁর নূরের ফয়েজ হতে তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন।অতঃপর ঐ নূর খোদায়ী কুদরতে যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা ভ্রমণ করতে থাকে।তখন লওহ,কলম,জান্নাত,জাহান্নাম, ফেরেশতা,আসমান,জমীন,সূর্য,চন্দ্র,দানব,মানব কিছুই ছিল না।
অতঃপর যখন আল্লাহপাক বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন,তখন ঐ নূরকে চারভাগে বিভক্ত করেন।একভাগ দ্বারা কলম সৃষ্টি করলেন,দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা লওহ,আর তৃতীয় ভাগ দ্বারা আরশ সৃষ্টি করেন……….” এরপর সুদীর্ঘ হাদিস রয়েছে।“

[আশরাফ আলী থানবী, নশরুত্তীব ফি যিকরেন্নাবিয়িল হাবিব,২৫ পৃঃ, মারকাযে মা’রিফ হাকিমুল উম্মত,বায়তুশ শরফ,থানাবন,মুজাফফর নগর,ইউপি, ভারত থেকে প্রকাশিত]

#হযরত জাবের رضي الله عنه এর বর্ণিত হাদিসটি বর্ণনা করে তিনি এর ব্যাখ্যায় লিখেন-“এ হাদিস দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে সর্বপ্রথম নূরে মুহাম্মদী (ﷺ)-সৃষ্টি হওয়া প্রমাণিত।কেননা যেসব সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রথম সৃষ্টি বলে হাদিসে বর্ণনায় এসেছে।ওইসব সৃষ্টি ‘নূরে মুহাম্মদী’ থেকে পরে সৃষ্টি হবার বিষয়টি আলোচ্য হাদিস দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।“
[নশরুত্তীব ফি যিকরেন্নাবিয়িল হাবিবঃ ২৫ পৃঃ]

#মাওলানা আশরাফ আলী থানবী তার এ গ্রন্থে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেন-“হযরত আলী رضي الله عنهহতে বর্ণিত নিশ্চয়ই নবী করীম ﷺইরশাদ করেন,আমি আদম (আঃ) সৃষ্টি হওয়ার চৌদ্দ(১৪) হাজার বছর পূর্বে আমার প্রতিপালকের সমীপে নূর আকারে বিদ্যমান ছিলাম।“
[নশরুত্তীব ফি যিকরেন্নাবিয়িল হাবিবঃ২৬ পৃঃ]

#দেওবন্দের এই হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী তার লিখিত অপর আরেকটি গ্রন্থ “ছালজুছ সুদুর” এ লিখেন- “ হুজুর (ﷺ) নিঁজেই স্বয়ং নূর এবং কোরআন শরীফ নামক নূরের অধিকারী।সুতারাং উভয়ে মিলে কেন নূরুন আ’লা নূর অর্থাৎ নূরের উপর নূর হবেন না?”

#আবার একটি হাদিস শরীফ উল্লেখ করেছেন “ইমাম জয়নুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উঁনার পিতা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম থেকে এবং তিঁনি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে,

كنت نورا بين يدي ربي قبل خلق ادم باربعة غشر الف عام
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ মুবারক করেন, আমি আদম আলাইহিস সালাম উঁনার সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আঁমার রবের নিকট নূর হিসাবে বিদ্যমান ছিলাম !’”
[নশরুততীব ৬ পৃষ্ঠা]

#শুধু তাই নয়, আশরাফ আলী থানবীকে সর্মথন করে তার বরাত দিয়ে দেওবন্দী ইউসুফ লুদইয়ানবী তার কিতাবে লিখেন:

اپ صلي الله عليه و سلم نے فرمايا-اءے جابر اللہ تعالي نے تمام اشیاء سے پھلے تیرے نبي كا نور اپنے نوسے… اس حديث سے نور محمدي صلي الله عليه و سلم كا اول الخلق هونا باوليت حقيقت ثابت هوا
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, হে জাবের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ! আল্লাহ পাক সব কিছুর পূর্বে আঁপনার নবীর নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। এ হাদীস শরীফ দ্বারা হাক্বীক্বী ভাবে প্রমানিত হলো যে , নূরে মুহম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন প্রথম সৃষ্টি !”

[ আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল ৩ খন্ড ৮৩ পৃষ্ঠা]

★২৭

. দেওবন্দী মসলকের সর্বজন মান্য মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী বলেন-

حق تعالی در شان حبیب خود صلی الله علیه وسلم فرمود که آمده نزد شما از طرف حق تعالی نور وکتاب مبین ومراد از نور ذات پاک حبیب خدا صلی الله علیه وسلم نیز فرمود که اے نبی ترا شاھد مبشر ونذير و داعی الی اللہ و سراج منير فرستادہ ایم ومنیر روشن کنندہ و نور دھندہ را گویند پس اگر کسے را روشن کردن از انساناں محال بودے آن ذات پاک صلی الله علیه وسلم را ہم ایں امر میسر نیامد کہ آ ذات پاک صلی الله علیه وسلم ہم از جملہ اولاد آدم علیہ السلام اند مگر آں حضرت صلی الله علیه وسلم ذات خود را چناں مظہر فرمود کہ نور خالص گشتند و حق تعالی ان جناب سلامہ علیہ را نور فرمود وبہ ثابت شد کہ آں حضرت علیہ السلام سایہ نہ داشتند ظاہر است کہ بجز نور ہمہ اجسام ظل می دارند-

আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিব صلی الله علیه وسلم এঁর শানে ফরমায়েছেন,তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এ আয়াতে নূর দ্বারা হাবিবে খোদা صلی الله علیه وسلم এঁর নূরকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, হে নবী صلی الله علیه وسلم আঁমি তো আঁপনাকে সাক্ষী,সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী,আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে পাঠিয়েছি।আর ‘মুনীর’ উজ্জ্বলকারী ও আলোকদাতাকে বলা হয়। সুতরাং মানুষের মধ্যে কাউকে উজ্জ্বল করা যদি অসম্ভব হতো তাহলে হযরত صلی الله علیه وسلم এঁর পবিত্র সত্তার অন্তর্গত কিন্তু তিঁনি তাঁর মোবারক সত্তাকে এমনভাবে পবিত্র করেছেন যে,তিঁনি নিখুঁতভাবে নূরে পরিণত হন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নূর ফরমায়েছেন। আর সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসূল صلی الله علیه وسلم এর ছায়া ছিল না এবং এটাও প্রকাশ্যমান যে,নূর ব্যতীত সমুদয় জড় দেহের ছায়া থাকে।

[ইমদাদুস সুলূক-পৃ. ৮৫]

#আবার এভাবেও বর্নিত আছে।দেওবন্দিদের রশীদ আহমেদ গাংগুহি লিখেছেন ;

بتواتر ثابت ثد كه انحضرت صلي الله عليه و سسلم سايه ند اثتند- وظاهر است كه بجز نور همه اجسام ظل مي دارند
অর্থ:একথা মুতাওয়াতির বর্ননা দ্বারা প্রমানিত যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার শরীর মোবারকের ছায়া ছিলো না। প্রকাশ থাকে যে নূরের দেহ ছাড়া সকল দেহের ছায়া থাকে।”
[ইমদাদুস সুলুক ৮৬ পৃষ্ঠা]

#মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী বলেন-

غرضیکہ حقیقت محمد صلی الله علیه وسلم التحیۃ واسطہ جملہ کمالات عالم عالمیہ ہے یہ ھی معنی لولاک لما خلقت الافلاک اور اول ما خلق اللہ نوری اور انا نبی الانبیاء کے ہیں
মোট কথা হলো সমস্ত কায়েনাত বা আলম হাকীকতে মুহাম্মদী তথা নূরে মুহাম্মদী থেকে সৃষ্ট। যেমন হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, যদি আঁপনি না হতেন তবে আঁমি সকল আসমান-যমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। রাসূল صلی الله علیه وسلم এর বানী, মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম আঁমার নূর সৃষ্টি করেছেন এবং আরও বলেন আঁমি নবীদেরও নবী।
[আশ শিহাবুস সাক্বিব- পৃ: ৫০।
কুতুবখানায়ে রহিমিয়্যাহ, সাহানপুর,ভারত থেকে প্রকাশিত]

#দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতভী বলেন

کہاں وہ رتبہ کہاں وہ عقل نار سا اپنی
کہاں وہ نور خدا اور کہاں یہ دیدۃ زار
কোথায় ঐ উঁচু মর্যাদা? কোথায় ঐ নিজের অপূর্ব বিবেক? কোথায় ঐ খোদার নূর? (নবীজী صلی الله علیه وسلم) আর কোথায় সেই অশ্রুসজল চোখ?
[ক্বাসাইদে ক্বাসেমী- পৃ. ৭]

#দেওবন্দের শাইখুল হাদিস আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী বলেন,
کاندر آنجا نور حق بود وہند دیگر حجاب
دید وبشنید آنچہ جزوی کس بنشنید وندید
ওই জায়গায় আল্লাহর নূর ছিলো,আর অন্যরা পর্দাবৃত। তাই দেখেছে ও শুনেছে।কিন্তু ওই নূর এমনই অনন্য যে,তা সম্পর্কে না কেউ শুনেছে,না তেমনি সুন্দর কেউ দেখেছে।
[আকীদুল ইসলাম- পৃ. ২১৯]

#বাংলাদেশের দেওবন্দীদের গর্ব শায়খুল হাদিস আজিজুল হক বুখারী শরীফে অনুবাদ করতে গিয়ে লিখেছেন: “নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম আল্লাহ পাক আঁপনার নবীর নূর মোবারক সৃষ্টি করেছেন।”
[আজিজুল হক অনুদিত বুখারী শরীফ ৫ম খন্ড,৩-পৃষ্ঠা]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ