খাজা বাবা জানাবাত ও নাপাকী
(সহবাস ও অপবিত্রতা)
সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলেন
খেদমতে উপস্থিত ছিলেন খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী ( রহঃ), হযরত বাহাউদ্দীন বোখারী (রহঃ) এবং খাজা শিহাবুদ্দিন বোগদাদি (রহঃ)।
খাজা বুজুর্গ এরশাদ করলেন-সহবাসের অপবিত্রতা মানুষের লোমের গোড়া পর্যন্ত প্রবেশ করে। প্রত্যেকের উচিত এমতাবস্থায় গোসলের পানি লোমের গোড়াপর্যন্ত পৌঁছানো। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালভাবে ভিজিয়ে নেয়া যেন কোন অংশ শুকনা না থাকে। যদি কোন অঙ্গ শুকনা থাকে তাহলে তার ফরজ গোসল শুদ্ধ হবেনা এবং হাশরের দিন তার শরীর তার সাথে শত্রুতা করবে।
আমি হযরত খাজা ওসমান হারুনী (ক.)'র থেকে শুনেছি যখন হযরত আদম (আ.) কে অপবিত্রতার অপরাধে দুনিয়ায় ফেলে দেয়া হয়েছে এবং দুনিয়ায় ক্ষমা লাভের পর যখন তিনি বিবি হাওয়া (আ.) এর সাথে সহবাস ক্রিয়া সম্পন্ন করলেন তখন জিবরাঈল (আ.) তাঁকে গোসলের উপদেশ দেন।
হযরত আদম (আ.) গোসল করে তৃপ্ত অনুভব করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন ওহে ভাই জিবরাইল এই গোসলের কোন ফায়দা বা বখশিশ আছে কি? উত্তরে বললেন এর বিনিময়ে বহু পূণ্য আছে। প্রথমত-আপনার শরীর মোবারকের যতগুলি লোম আছে প্রত্যেকটি লোমের বিনিময়ে ১ বছরের সওয়াব পাবেন। দ্বিতীয়ত- ফরজ গোসলের প্রতিটি ফোঁটা হতে আল্লাহ এক একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন যারা জীবিত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবে এবং তাদের ইবাদতের সওয়াব আপনিও পাবেন।
পরে আবার জিজ্ঞেস করলেন এসব আল্লাহতালা কি আমার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন না পরবর্তীতে আমার আওলাদ যারা আসবে তারা একইভাবে এর জন্য পুরস্কৃত হবে? উত্তরে বললেন, আপনার আউলাদের মধ্যেও যারা ঈমানদার এবং মুসলমান হবে এবং তারা যদি এমনি করে পবিত্রতার সাথে ফরজ গোসল নিয়ম অনুযায়ী করে তারাও এর সওয়াব পাবে যেমনিভাবে আপনাকে দেয়া হল।
এই ঘটনা বলতে বলতে হযরত খাজা বাবার চোখ দুটো অশ্রু ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। পুনরায় বললেন এটা শুধু যারা ফরজ গোসল আদায় করে তাদের জন্য কিন্তু কিছু দল আছে যারা এই নিয়ামত হতে বঞ্চিত। কেননা তাদের ফরজ গোসল প্রায়ই নিষিদ্ধ সহবাসের সময় ঘটে। আরো একটি দল আছে যাদের হালাল গোসলও পরিপূর্ণতার অভাবে বাতিল হয়ে যায়।
যখন কেউ হারাম গোসল করে তখন আল্লাহ তাআলা তাদের আমল নামায় ১ বছরের গুনাহ লিখে দেন এবং গোসলের প্রতিটি ফোঁটা হতে এক একটি দৈত্য-দানব সৃষ্টি করেন এবং তারা যতদিন জীবিত থাকবে, যতগুলো পাপ করবে তাদের সকল পাপের সমপরিমাণ তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হবে।
সূত্রঃ দলিলুল আরেফীন কিতাব হতে।

0 মন্তব্যসমূহ